স্পোর্টস ডেস্ক : ঘনিয়ে আসছে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। ভারত ও শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত এই বৈশ্বিক ইভেন্ট শুরু হওয়ার মুহূর্তে ভারতে এর আয়োজন ঘিরে শুরু হয়েছে ঘোরতর অনিশ্চয়তা। কারণ পশ্চিমবঙ্গে দেখা দিয়েছে নিপাহ ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব, যা রূপ নিতে যাচ্ছে মহামারির।
এই রাজ্যের রাজধানী কলকাতায় হবে সেমিফাইনালসহ ৬ ম্যাচ। ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়া ভারতে বিশ্বকাপ খেলা নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে বলে খবর। অবশ্য সরকারের পক্ষ থেকে এনিয়ে উদ্বেগ প্রকাশের কারণ নেই বলে জানানো হয়েছে। ভারতীয় ক্রিকেট নিয়ন্ত্রণ বোর্ড (বিসিসিআই) বলছে, বিশ্বকাপ আয়োজন নিয়ে কোনো অনিশ্চয়তা নেই।
পশ্চিমবঙ্গে নিপাহ ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়। এনিয়ে এই রাজ্যে অষ্টমবার এই প্রাণঘাতী ভাইরাস ছড়িয়েছে। সম্প্রতি দুই নারী নার্স এই ভাইরাসে পজিটিভ হন এবং তাদের চিকিৎসার জন্য আইসোলেশনে রাখা হয়েছে। তাদের সংস্পর্শে আশা প্রত্যেকের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়েছে এবং তাদের সবার রিপোর্ট নেগেটিভ এসেছে।
সরকারি দাবি অনুযায়ী, এই প্রাদুর্ভাবকে ‘স্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা’ বলা পরিস্থিতির গুরুত্বকে অতিরঞ্জিত করা। বর্তমানে এটি একটি স্থানীয় প্রাদুর্ভাব এবং তা নিয়ন্ত্রণে আছে।স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘কেন্দ্রীয় ও রাজ্য স্বাস্থ্য সংস্থাগুলোর সমন্বিত প্রচেষ্টায় উন্নত নজরদারি, ল্যাবরেটরি পরীক্ষা ও মাঠপর্যায়ে তদন্ত চালানো হয়েছে, যা সময়মতো এই সংক্রমণের বিস্তার রোধ নিশ্চিত করেছে। এখন পর্যন্ত নিপাহ ভাইরাসের নতুন কোনো রোগী শনাক্ত হয়নি। পরিস্থিতি প্রতিনিয়ত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় সকল স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা হচ্ছে।’
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলেছে, ‘এখন পর্যন্ত নিপাহর আর কোনো নতুন কেস পাওয়া যায়নি। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। বর্তমান তথ্যের ওপর ভিত্তি করে ডব্লিউএইচও ভ্রমণ বা বাণিজ্যে কোনো বিধিনিষেধ আরোপের সুপারিশ করছে না।’
আয়োজক সংস্থা বিসিসিআই যেকোনো স্বাস্থ্য জরুরি অবস্থার ক্ষেত্রে সবসময় সরকারি সংস্থাগুলোর সাথে পরামর্শ করে। তবে এই ক্ষেত্রে, নিপাহ ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের ভয়াবহতা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আলোচনাগুলো কেবল কৌশলগত ও ভীতি প্রদর্শনমূলক। ভারত সরকার ইতোমধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করা এ ধরনের ভুল তথ্যের বিরুদ্ধে সতর্ক করেছে।
বিসিসিআই-এর একজন সিনিয়র কর্মকর্তা ইনসাইডস্পোর্ট-কে বলেছেন, ‘খেলোয়াড়দের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা আমাদের কাছে সবসময় খুব গুরুত্বপূর্ণ। আমরা যেকোনো স্বাস্থ্য সংক্রান্ত জরুরি অবস্থাকে হালকাভাবে নিই না। বড় কোনো ইভেন্টের আগে স্বাস্থ্য বা নিরাপত্তার বিষয়ে সবসময় বিস্তারিত পরিকল্পনা থাকে। আমরা এখনও তেমন কোনো ঝুঁকি খুঁজে পাইনি। যদি আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ে, তবে আমরা স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এবং সরকারের সঙ্গে পরামর্শ করব। আপাতত এটি কেবল আতঙ্ক ছড়ানোর চেষ্টা। উদ্বেগের কোনো কারণ নেই।’
নিপাহ ভাইরাসের সবশেষ দুই রোগী বারাসাতে শনাক্ত হয়েছে, যা ইডেন গার্ডেন্স থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরে। তবুও নিরাপত্তার কোনো শঙ্কা নেই। ম্যাচগুলো পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ীই চলবে।
বিসিসিআই কর্মকর্তা আরও যোগ করেছেন, ‘একেবারেই কোনো উদ্বেগ নেই এবং কলকাতা থেকে ম্যাচ সরিয়ে নেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। সবকিছু নিরাপদ। যদি সরকার বা স্থানীয় কর্তৃপক্ষ আমাদের অন্য কোনো পরামর্শ দেয়, তবে আমরা সেই অনুযায়ী পরিকল্পনা করব। বর্তমানে নিপাহ প্রাদুর্ভাব নিয়ে এ ধরনের কোনো আলোচনার প্রয়োজন পড়েনি।’